• ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেডিকেলে মাঝরাতে চিকিৎসাধীন শ্রমিক নিখোঁজ! রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ১, ২০২৬, ২৩:৪৯ অপরাহ্ণ
মেডিকেলে মাঝরাতে চিকিৎসাধীন শ্রমিক নিখোঁজ! রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
মেডিকেলে মাঝরাতে চিকিৎসাধীন শ্রমিক নিখোঁজ! রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আতাউল (২২) নামে এক চাতাল শ্রমিক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল রাত ১২টার দিকে হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগ থেকে ধূমপান করতে যাচ্ছি বলে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ আতাউল বগুড়া জেলা সদরের সাপগ্রাম পশ্চিম পাড়ার আলী হোসেনের ছেলে।
পারিবারিক ও সহকর্মী সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার দপদপিয়া এলাকার একটি মুড়ি কারখানায় কাজ করছিলেন আতাউল। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে কারখানার টিনের চালে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান তিনি। এতে তার ঘাড়ের হাড় ভেঙে গুরুতর জগত জখম হয়।
কারখানা মালিক ও সহকর্মীরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুনরায় তাকে শেবাচিম হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে ফিরিয়ে আনা হয়।
নিখোঁজের সময় আতাউলের সাথে থাকা সহকর্মী আরাফাত জানান, রাত ১১টার দিকে আতাউল চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে বেডে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। রাত ১২টার দিকে সে আমাকে বলে- একটু ধূমপান করতে বাইরে যাচ্ছে। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সে আর ফিরে আসেনি।ঘটনার পরপরই বিষয়টি কারখানার মালিক মাইদুল ইসলাম লিটুকে জানানো হলে তিনি রাতেই হাসপাতালে ছুটে আসেন। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের আনাচে-কানাচে এবং সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও আতাউলের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
কারখানার মালিক মাইদুল ইসলাম লিটু বলেন, আমার কারখানায় কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় আতাউলের ঘাড়ের হাড় ভেঙে যায়। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম। শুক্রবার সারাদিন আমরা তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি, কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা তার পরিবারকেও অবগত করেছি এবং পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছি।
আরেক শ্রমিক মিজান জানান, আতাউল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তারা সবাই চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না, এই অবস্থায় সে কোথায় যেতে পারে তা কেউ বুঝতে পারছে না।
হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্সরা জানান, আমরা সকাল শিফটে এসে তাকে বেডে পাইনি, তবে শুনেছি রোগীর স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করছে।
বিষয়টি নিয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন জানান, নিখোঁজের বিষয়টি মৌখিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন,আমরা কারখানা মালিক ও সহকর্মীদের আরও নিবিড়ভাবে খোঁজাখুঁজির পরামর্শ দিয়েছি। যদি একান্তই সন্ধান না পাওয়া যায়, তবে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের একটি সাধারণ ডায়েরি করার কথা বলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি নজরদারিতে রাখছে।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় একজন রোগী হাসপাতাল থেকে কীভাবে নিখোঁজ হলেন, তা নিয়ে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ যুবকের পরিবার বগুড়া থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন....