নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ এলাকায় এক উচ্চ বিদ্যালয়ের নারী অফিস সহকারীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তার বাবার ওপর অতর্কিত হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে শায়েস্তাবাদের চুরামন গ্রাম সংলগ্ন বিলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।আহত ব্যক্তির নাম মহিউদ্দিন মৃধা। তিনি ওই এলাকার ফইজুদ্দিন মৃধার ছেলে এবং রামকাঠি মিনা পাড়া হাই স্কুলের অফিস সহকারী ময়ূরী বেগমের বাবা। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত মহিউদ্দিন মৃধা জানান, তার মেয়ে ময়ূরী বেগম দীর্ঘ ৯ বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তার একটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পূর্ব থেকেই শায়েস্তাবাদ এলাকার মজিবর মৃধার ছেলে বখাটে রাকিব তাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করে আসছিল। কর্মজীবনে প্রবেশের পরও সেই হয়রানি বন্ধ হয়নি।অভিযোগ রয়েছে যে, বখাটে রাকিব ময়ূরী বেগমের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ভুয়া (ফেক) আইডি খুলে মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে আসছিল। এমনকি ময়ূরীর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছেও মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে তার দাম্পত্য জীবনে কলহ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায় রাকিব।
পারিবারিক ও সামাজিক সম্মানের কথা চিন্তা করে মহিউদ্দিন মৃধা এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রাকিব। গত বৃহস্পতিবার সকালে মহিউদ্দিন মৃধা চুরামন বিলের মধ্যে কৃষিকাজ করতে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রাকিবের নেতৃত্বে তার স্ত্রী সোনিয়া, বাবা মজিবর, মা রাহিমা এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন তার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
আহত মহিউদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাকিব নিজে বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে, অথচ সে দীর্ঘ বছর ধরে আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। এর প্রতিবাদ করায় আমাকে একা পেয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা হামলা চালিয়েছে।ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত মহিউদ্দিনকে উদ্ধার করেন। তিনি জানান, বর্তমানে চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ বোধ করলে তিনি থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বখাটে রাকিবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নারী কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।