• ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহিপুরে মাদক ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদের জেরে রণক্ষেত্র দুলেশ্বর: নারীসহ আহত ১৫, আশঙ্কাজনক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
মহিপুরে মাদক ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদের জেরে রণক্ষেত্র দুলেশ্বর: নারীসহ আহত ১৫, আশঙ্কাজনক ৩
মহিপুরে মাদক ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদের জেরে রণক্ষেত্র দুলেশ্বর: নারীসহ আহত ১৫, আশঙ্কাজনক ৩
নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী মহিপুর থানার (দুলেশ্বর) ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের চাপলি গ্রামে এক ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের সশস্ত্র হামলায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ২২ এপ্রিল বুধবার রাতে চাপলি বাজারে এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। মূলত এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সংসদ সদস্য এবিএম মোশারেফ হোসেনের ভাতিজা আল ইমরান এলাকায় ‘আল মামুন স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ নামে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। গত ১৮ এপ্রিল টুর্নামেন্টটি উদ্বোধনের পর থেকেই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। তবে স্থানীয় চিহ্নিত ‘মাদক সম্রাট’ সোহেল হাওলাদার ও তার ভাই রাজিবকে এই টুর্নামেন্টে আমন্ত্রণ না জানানোয় তারা ক্ষিপ্ত হয় এবং হট্টগোল শুরু করে। এলাকাবাসীর দাবি, ফুটবল খেলা একটি উছিলা মাত্র; মূলত দীর্ঘদিন ধরে সোহেল বাহিনীর মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসায় তারা এই হামলার নীল নকশা তৈরি করে।
গত ২২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকার সময় চাপলি বাজারে অতর্কিত হামলা চালায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার মাদকের গডফাদার হিসেবে পরিচিত সাবির আহমেদ ও তার ছেলে সোহেল হাওলাদারের নেতৃত্বে দিদার, রাজিব, রাইতুল, রাসেল, আবুল ও রোমানসহ একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন:জেলে শাহাবুদ্দিন ও তার ভাই হিলন চৌকিদার।ভাগিনা সোহেল (আমির হোসেনের ছেলে)।রাকিব (এসএসসি পরীক্ষার্থী), স্বাধীন ও রিয়াজ।নারী ভুক্তভোগী: নাসিমা বেগম, চাবানু, রিপা বেগম ও জানু বেগম।আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শাহাবুদ্দিন, হিলন চৌকিদার ও ভাগিনা সোহেলের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) রেফার করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত হিলন চৌকিদার আক্ষেপ করে বলেন, সোহেল বাহিনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। আমরা মাদক ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তারা সুযোগ খুঁজছিল। খেলার নাম করে তারা আমাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে।
হামলায় আহত নাসিমা বেগম বলেন, সাবির ও তার ছেলে সোহেলের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। কেউ মুখ খুললেই হামলা-মামলার শিকার হতে হয়। আমরা এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ঘটনার পর মহিপুর থানায় মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাসপাতালের ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে তারা দ্রুতই থানায় একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করবেন।
এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে চিহ্নিত এই মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন....