• ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাধবপাশায় জমি নিয়ে বিরোধ: সাবেক সেনা সদস্যের নেতৃত্বে শাশুড়ি-পুত্রবধূসহ ৫ জনকে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৮:১২ পূর্বাহ্ণ
মাধবপাশায় জমি নিয়ে বিরোধ: সাবেক সেনা সদস্যের নেতৃত্বে শাশুড়ি-পুত্রবধূসহ ৫ জনকে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম
মাধবপাশায় জমি নিয়ে বিরোধ: সাবেক সেনা সদস্যের নেতৃত্বে শাশুড়ি-পুত্রবধূসহ ৫ জনকে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম
নিজস্ব প্রতিবেদক,বরিশাল বিমানবন্দর থানাধীন মাধবপাশা এলাকায় পৈত্রিক জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধা শাশুড়ি ও তার পুত্রবধূসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে মাধবপাশার বারইখালি বৈদ্যবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।হামলাকারীরা কেবল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষই ঘটায়নি, বরং বসতঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নিয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর আহত অবস্থায় শাশুড়ি মরিয়ম বেগম এবং তার পুত্রবধূ মায়া ফেরদৌসকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া হামলায় আহত মরিয়মের ছেলে জাহাঙ্গীর, নাতনি স্বর্না এবং নাতি শুভকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, আহত বৃদ্ধা মরিয়ম বেগমের পৈত্রিক ওয়ারিশি সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার আপন বোনের ছেলে, সাবেক সেনা সদস্য আবু হানিফ ফিরোজের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, ফিরোজ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মরিয়মের প্রাপ্য অংশ জবরদখল করার পায়তারা চালিয়ে আসছিল।বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিপক্ষ আবু হানিফ ফিরোজ, তার দুই ভাই সবুজ মুহুরি ও একদল ভাড়াটে সহযোগী নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত জমিতে ঘর তুলতে যায়। এসময় মরিয়ম বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রাপ্য সীমানায় অনুপ্রবেশে বাধা দিলে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ফিরোজের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরিবারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আহতদের স্বজনদের অভিযোগ, আবু হানিফ ফিরোজ সাবেক সেনা সদস্য হওয়ার সুবাদে আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আসছেন। তিনি এর আগেও একাধিকবার এই পরিবারটিকে হয়রানি করেছেন। বৃহস্পতিবারের হামলায় তারা কেবল মানুষকেই রক্তাক্ত করেনি, বরং নারীদের গায়ের অলংকার ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
ঘটনার পর পর বিমানবন্দর থানায় বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন....